সুবর্ণ সেনগুপ্ত
একটি প্রতীক কখনও কখনও শুধুই একটি প্রতীক থাকে না। তার সঙ্গে জড়িয়ে যায় একটি রাজনৈতিক দলের ইতিহাস, কয়েক দশকের প্রচার, অসংখ্য নির্বাচনের স্মৃতি এবং ভোটারের মনে তৈরি হওয়া একটি স্থায়ী পরিচয়। তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষেত্রে সেই প্রতীক ‘ঘাসের উপর জোড়া ফুল’। ১৯৯৮ সালে আলাদা রাজনৈতিক পরিচয়ে পথ চলা শুরু করার পর থেকে এই প্রতীকই হয়ে উঠেছে তৃণমূলের নির্বাচনী পরিচয়ের অন্যতম প্রধান চিহ্ন। কিন্তু ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর সেই পরিচয়ের সামনে তৈরি হয়েছে এক নজিরবিহীন প্রশ্ন। নির্বাচন কমিশন আপাতত ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ‘জোড়া ফুল’ প্রতীক দুটিই ফ্রিজ করে দিয়েছে। ফলে আসন্ন বিধানসভা উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী কিংবা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠী—কেউই পুরনো নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকেই বিকল্প নাম ও বিনামূল্যের প্রতীকের জন্য পছন্দ জানাতে হয়েছে। কিন্তু এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শব্দটি হল—‘আপাতত’। কারণ নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত রায় হিসেবে দেখা হচ্ছে না। কমিশনের সামনে এখনও মূল প্রশ্নটি রয়ে গেছে—দুই গোষ্ঠীর মধ্যে আসলে কোন পক্ষকে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, নাকি কোনও পক্ষকেই সেই স্বীকৃতি দেওয়া হবে না।
এই জায়গাতেই সামনে আসে নির্বাচন প্রতীক সংক্রান্ত ১৯৬৮ সালের আদেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ। কোনও স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের ভিতরে ভাঙন তৈরি হলে এবং দুই বা একাধিক গোষ্ঠী নিজেদের মূল দল বলে দাবি করলে নির্বাচন কমিশনের হাতে এই বিধানের অধীনে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। কমিশন সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য, নথি এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ বিবেচনা করে ঠিক করতে পারে কোন গোষ্ঠী মূল রাজনৈতিক দল, অথবা কোনও গোষ্ঠীকেই মূল দল হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে। সুপ্রিম কোর্টও বহু বছর আগে ‘সাদিক আলি বনাম নির্বাচন কমিশন’ মামলায় এই ক্ষমতার সাংবিধানিক ভিত্তি স্বীকার করেছিল। আদালত স্পষ্ট করেছিল, দল ভেঙে গেলে প্রতীককে দুই ভাগ করে দেওয়া যায় না; প্রতীক একটি পক্ষের কাছেই থাকবে, আর কোন পক্ষ সেই রাজনৈতিক দল হিসেবে গণ্য হবে তা নির্ধারণ করবে কমিশন।
অর্থাৎ আজকের দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি শুধু ‘জোড়া ফুল কার?’ নয়। তার আগে প্রশ্ন—‘আইনের চোখে তৃণমূল কংগ্রেস কোন পক্ষ?’ আর সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে শুধু বিধানসভায় কার কতজন সদস্য, সেটিই একমাত্র মাপকাঠি নয়। সাংগঠনিক কাঠামো, দলের সংবিধান, বৈধভাবে গঠিত কমিটি, সাংগঠনিক সমর্থন, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অবস্থান এবং দলের ভিতরের বৈধ কর্তৃত্ব—সবকিছুই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সুপ্রিম কোর্টের ২০২৩ সালের একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়েও দলীয় প্রতীক সংক্রান্ত বিরোধে সাংগঠনিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছিল।
তাহলে কি জোড়া ফুল চিরতরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া? বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সময় এখনও আসেনি। কারণ নির্বাচন কমিশনের বর্তমান পদক্ষেপটি মূলত উপনির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা। কমিশন এখনও চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করেনি যে জোড়া ফুল কোনও একটি গোষ্ঠীকে স্থায়ীভাবে দিয়ে দেওয়া হল। বরং দুই পক্ষকেই আপাতত নতুন পরিচয় নিয়ে নির্বাচনে যেতে বলা হয়েছে এবং মূল বিরোধের নিষ্পত্তির জন্য পরবর্তী প্রক্রিয়া চলবে।
এর ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীর সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি পথ এখনও খোলা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সামনে তাঁরা নিজেদের সাংগঠনিক বৈধতা এবং দলের ধারাবাহিকতার পক্ষে নথি পেশ করতে পারবেন। কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তাঁদের বিপক্ষে গেলে সেই সিদ্ধান্তের বিচারিক পর্যালোচনার পথও পরিস্থিতি ও সিদ্ধান্তের প্রকৃতির ওপর নির্ভর করে খোলা থাকতে পারে। সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা দিয়েছে এবং ১৯৬৮ সালের প্রতীক সংক্রান্ত আদেশ সেই ক্ষমতার কাঠামোর মধ্যেই তৈরি। ফলে কমিশনের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করার প্রশ্নে উচ্চ আদালতের বিচারিক পর্যালোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে নির্বাচন চলাকালীন আদালতের হস্তক্ষেপের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৩২৯ নম্বর অনুচ্ছেদের বিধিনিষেধও বিবেচনায় রাখতে হবে। তাই ‘মামলা করলেই প্রতীক ফিরে আসবে’—এমন সরল সমীকরণ এখানে নেই।
কিন্তু জোড়া ফুলের থেকেও বড় একটি প্রশ্ন ইতিমধ্যে সামনে এসেছে—তৃণমূলের জমা টাকা এবং সম্পদের ভবিষ্যৎ কী? প্রকাশিত ২০২৪-২৫ সালের অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১,০৮১ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। তার মধ্যে প্রায় ৬২৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা ব্যাঙ্কে এবং প্রায় ২৫০ কোটি ৭৭ লক্ষ টাকা বিনিয়োগে রয়েছে বলে রিপোর্ট করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতীক নিয়ে যে রাজনৈতিক লড়াই, তার পাশাপাশি আর্থিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়েও একটি বিশাল আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—দলের প্রতীক আর দলের সম্পত্তি এক জিনিস নয়। ১৯৭১ সালের ‘সাদিক আলি’ মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, নির্বাচন প্রতীককে সম্পত্তি হিসেবে দুই পক্ষের মধ্যে ভাগ করা যায় না। নির্বাচন কমিশনের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে সিদ্ধান্ত মূলত নির্বাচনী প্রতীক এবং স্বীকৃত রাজনৈতিক দলের পরিচয় সংক্রান্ত। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ হলে তার উপযুক্ত বিচারিক মঞ্চ আলাদা হতে পারে। অর্থাৎ ‘জোড়া ফুল যে পাবে, তৃণমূলের সমস্ত টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই পক্ষ পেয়ে যাবে’—আইন এমন সরল ব্যবস্থা তৈরি করে না।
আর তৃণমূলের আর্থিক পরিস্থিতি ইতিমধ্যেই আরও জটিল। ২০২৬ সালের জুনে দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে পুলিশি অভিযোগের পর ফ্রিজের ঘটনা ঘটে। পরবর্তী সময়ে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটও তদন্ত শুরু করে এবং ৭ জুলাই তিনটি এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার পদক্ষেপ নেয়। কলকাতা হাইকোর্টের নথিতে এই মামলার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। আদালতের সামনে তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য ছিল, ওই অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন নিয়ে অর্থপাচারের সন্দেহে তদন্ত চলছে; অন্যদিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে পুরো অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
অন্যদিকে চারটি ইন্ডিয়ান ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আটশো কোটি টাকার কিছু বেশি অর্থ থাকার কথা প্রকাশ্যে এসেছে। আগস্টে কলকাতা হাইকোর্ট মমতা-নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ওই চারটি ফ্রিজ করা অ্যাকাউন্ট পরিচালনার জন্য অন্তর্বর্তী অনুমতি দেয়নি। আদালতের পর্যবেক্ষণের অন্যতম কারণ ছিল—নির্বাচন কমিশন এখনও নির্ধারণ করেনি, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে কোনটি আইনগতভাবে মূল তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করে।
এই জায়গাটিই গোটা ঘটনার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিক। একটি রাজনৈতিক দলের ভাঙন যখন শুধু পতাকা, নাম আর প্রতীকের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ থাকে না, তখন তার সঙ্গে জড়িয়ে যায় অফিস, কর্মী, দলীয় নথি, সম্পত্তি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং কোটি কোটি টাকার তহবিল। তখন ‘আসল দল’ নির্ধারণের প্রশ্নটির প্রভাব নির্বাচনী মাঠের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। তৃণমূলের ক্ষেত্রেও ঠিক সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
ধরা যাক, শেষ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকেই মূল অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি দিল। সেক্ষেত্রে জোড়া ফুল এবং দলের পুরনো নাম ফিরে পাওয়ার পথ তৈরি হতে পারে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি ফ্রিজ করা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যাবে। কোনও অ্যাকাউন্ট যদি পুলিশি তদন্ত, এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের পদক্ষেপ বা অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের অধীনে ফ্রিজ হয়ে থাকে, সেই আইনি বাধা আলাদাভাবে মোকাবিলা করতে হবে। একইভাবে দলের সম্পত্তি নিয়ে কোনও দেওয়ানি বিরোধ থাকলে সেটিও আলাদা আইনি প্রক্রিয়ার বিষয় হতে পারে।
আবার যদি বিপরীত গোষ্ঠীকে কমিশন মূল দল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে নির্বাচনী নাম ও প্রতীকের প্রশ্নে সেই পক্ষের অবস্থান শক্তিশালী হবে। কিন্তু সেখানেও দলের প্রতিটি সম্পদ এবং ব্যাঙ্কের প্রতিটি টাকার ওপর স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ তৈরি হবে কি না, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কের নথি, দলীয় গঠনতন্ত্র, অনুমোদিত স্বাক্ষরকারী, চলমান মামলা এবং সম্পদের ওপর থাকা পৃথক আইনি নিষেধাজ্ঞার ওপর।
আর একটি তৃতীয় সম্ভাবনাও আইনে একেবারে অস্বাভাবিক নয়—দুই পক্ষের কোনওটিকেই মূল দল হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া। ১৯৬৮ সালের প্রতীক সংক্রান্ত আদেশের ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ নির্বাচন কমিশনকে এমন সিদ্ধান্তের ক্ষমতাও দেয়। যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে কোন পথে কমিশন এগোবে, তা এখনই বলা যায় না।
তাহলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে এখন কী কী রাস্তা? প্রথম রাস্তা নির্বাচন কমিশনের মূল শুনানিতে নিজেদের সাংগঠনিক বৈধতা প্রতিষ্ঠা করা। দ্বিতীয় রাস্তা—কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে অসন্তুষ্ট হলে উপযুক্ত বিচারিক পর্যালোচনার দ্বারস্থ হওয়া। তৃতীয় রাস্তা—ফ্রিজ হওয়া ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির ক্ষেত্রে পৃথক আইনি লড়াই চালানো। চতুর্থ রাস্তা—দলের সম্পত্তি বা আর্থিক সম্পদের ওপর অন্য কোনও পক্ষের দাবি উঠলে সেই দাবির বিরুদ্ধে দেওয়ানি বা সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ায় লড়াই করা। অর্থাৎ দরজা একেবারে বন্ধ হয়ে যায়নি; বরং এখন লড়াইটি একাধিক দরজায় ভাগ হয়ে গেছে।
এই পুরো ঘটনাকে ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসের আগের দলীয় ভাঙনের সঙ্গে তুলনা করলে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট হয়। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, রাষ্ট্রীয় জনতা দল, জনতা দল এবং অন্য কয়েকটি দলের বিভাজনের সময় নির্বাচন কমিশনের সামনে একই প্রশ্ন এসেছে—ভাঙনের পরে কোন গোষ্ঠী মূল রাজনৈতিক দল এবং কোন গোষ্ঠী প্রতীক ব্যবহারের অধিকারী। সুপ্রিম কোর্টের পুরনো রায়গুলিতে সংখ্যাগত শক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হলেও পরবর্তী বিচারিক আলোচনায় দলের সাংগঠনিক কাঠামো ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যও গুরুত্ব পেয়েছে। তাই তৃণমূলের ক্ষেত্রেও শুধু বিধায়ক বা সাংসদের সংখ্যা দিয়ে শেষ হিসাব হবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
এখন প্রশ্ন উঠতে পারে জোড়া ফুল কি তবে ইতিহাস হয়ে যাবে? উত্তর এখনও অজানা। কারণ প্রতীকটি এখন ‘ফ্রিজড’, ‘বাতিল’ নয়। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন কমিশন আপাতত প্রতীকটিকে কোনও পক্ষের হাতে দেয়নি। আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য দুই পক্ষকে বিকল্প পরিচয় নিতে হচ্ছে। কিন্তু ভবিষ্যতের জন্য জোড়া ফুলের দরজা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
আর এখানেই হয়তো এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক-আইনি নাটক। এতদিন ভোটার যখন ব্যালটে জোড়া ফুল দেখেছেন, তখন সেটি শুধু একটি চিহ্ন ছিল না তার সঙ্গে জড়িয়ে ছিল একটি দলের নাম, একটি নেতৃত্ব, একটি রাজনৈতিক ইতিহাস এবং একটি পরিচিতি। এবার সেই পরিচিতিই আদালত, নির্বাচন কমিশন এবং দলের সাংগঠনিক নথির পরীক্ষার মুখে। উপনির্বাচন হয়তো সেই বৃহত্তর লড়াইয়ের শুধু প্রথম দৃশ্য।
শেষ পর্যন্ত জোড়া ফুল কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজন হলে আদালতের বিচারিক পর্যালোচনা। আর তৃণমূলের শত শত কোটি টাকার সম্পদ কার নিয়ন্ত্রণে যাবে, তার উত্তর খুঁজতে হবে আরও একাধিক আইনি প্রক্রিয়ার ভিতর দিয়ে। তাই আজকের দিনে সবচেয়ে নির্ভুল কথা একটাই জোড়া ফুলের লড়াই এখনও শেষ হয়নি; বরং এখনই শুরু হয়েছে তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রতীক সাময়িকভাবে নীরব, দলীয় নাম সাময়িকভাবে আটকে, ব্যাঙ্কের টাকা নিয়ে মামলা চলছে—কিন্তু শেষ সিদ্ধান্তের দরজা এখনও খোলা। আর সেই দরজার ওপারেই নির্ধারিত হতে পারে, ভবিষ্যতের নির্বাচনী মানচিত্রে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটি এবং ঘাসের উপর ফুটে থাকা সেই জোড়া ফুল শেষ পর্যন্ত কার পরিচয় হয়ে থাকবে।